1. poroshbangla@gmail.com : admin :
  2. info@sonalibanglatv.com : sonalibanglatv :
শনিবার, ০৮ মে ২০২১, ০১:০৮ অপরাহ্ন

ব্যবসা ৮০ শতাংশ ঘুরে দাঁড়িয়েছে

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ২১ ডিসেম্বর, ২০২০

করোনার সংক্রমণ রোধে গত মার্চের শেষ সপ্তাহে লকডাউন জারি করার পর আমাদের কারখানা ও বিক্রয়কেন্দ্র বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় দুই মাস সিংগাইরে আমাদের কারখানার উৎপাদন বন্ধ ছিল। পরে বিক্রয়কেন্দ্র ও কারখানা ধীরে ধীরে খুলতে থাকে তবে খাদ্য, বস্ত্র ও বাসস্থানের মতো প্রয়োজনীয় সামগ্রী না হওয়ায় আসবাব বিক্রি তুলনামূলক কম। তা ছাড়া মানুষের আয়ও আগের অবস্থায় ফেরেনি। এ কারণে ব্যবসাও স্বাভাবিক হয়নি। তারপরও সরকারের প্রণোদনা প্যাকেজ থেকে ঋণসুবিধা পাওয়ায় আমরা ব্যবসা চালিয়ে নিতে পারছি। বর্তমানে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় ব্যবসা ৮০ শতাংশ ঘুরে দাঁড়িয়েছে।নাদিয়া ফার্নিচারে সাড়ে ছয় শ কর্মী রয়েছেন। লকডাউনের পর শ্রমিকেরা যে যাঁর মতো গ্রামের বাড়িতে চলে যান। কিছু কর্মী ঢাকা ও আশপাশে ছিলেন। লকডাউন শেষে আমরা যখন কারখানায় উৎপাদন শুরু করলাম, তখন ২৫-৩০ শতাংশ কর্মী পেলাম। ধীরে ধীরে কর্মীর সংখ্যা বাড়লেও দৈনিক মজুরিতে কাজ করতেন এমন বেশ কিছু শ্রমিক আর ফিরে আসেননি। তাঁরা গ্রামের বাড়িতেই রয়ে গেছেন। তাতে কিছু দক্ষ কর্মী আমরা হারিয়ে ফেলেছি।

লকডাউনের শুরুতে বাসায় বসেই অফিস করেছি। ২০-২৫ দিন পর থেকে ঢাকা থেকে কারখানায় গিয়েছি। অন্য কর্মীদের সঙ্গে কাজ করেছি। লকডাউন শেষে কারখানা ও বিক্রয়কেন্দ্র খুলে দেওয়ার সময় আমরা কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলি। এ কারণে আমাদের কারখানা ও বিক্রয়কেন্দ্রে করোনার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখা গেছে। কারখানার একজন শ্রমিক করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। অন্যরা এখনো সুস্থ। দফায় দফায় যখন লকডাউন বাড়ানো হচ্ছিল, তখন আমরা অনলাইনে আসবাব বিক্রিতে জোর দিলাম। যদিও আগে থেকেই আমাদের কিছু প্রস্তুতি ছিল। তো গত কয়েক মাসে অনলাইনে বিক্রি বেশ বেড়েছে। তারপরও অধিকাংশ ক্রেতা এখনো সশরীরে বিক্রয়কেন্দ্রে এসে আসবাব দেখে তারপর কেনেন। করোনায় ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে আমরা করপোরেট বিক্রিতে নজর দিয়েছি। সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পে আমরা অংশ নিয়েছে। দরপত্রের মাধ্যমে কিছু কাজ পেয়েছি। সরকারের এসব কাজ আমাদের কারখানায় পুরোদমে উৎপাদন চালাতে সহায়তা করছে।

মহামারি ভাইরাসটি আমাদের ব্যবসায়িক দায় বাড়িয়ে দিয়েছে। এপ্রিল ও মে মাসে যে বিক্রি আমরা হারিয়েছি, সেটি রাতারাতি পূরণ হবে না। আস্তে আস্তে সেই ক্ষতি হয়তো পোষাবে। ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে সরকারের প্রণোদনা থেকে ঋণ নিতে হয়েছে। কারণ, বিক্রি না থাকলে প্রতি মাসে এক দেড় কোটি টাকা বেতন দেওয়া আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। তারপরও সরকারকে ধন্যবাদ দিতে হবে। কারণ, করোনার মধ্যে অর্থনীতি খুলে দেওয়ার যে সিদ্ধান্ত সরকার নিয়েছে, সেটি ছিল সময়োপযোগী ও সাহসী পদক্ষেপ। ওই সময় কাজটি না করা গেলে ভয়াবহ পরিস্থিতি হতো। আবার যদি প্রণোদনা না দেওয়া হতো, তাহলেও অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে যেত। অনেক উন্নত দেশের তুলনায় আমাদের অর্থনীতি ভালো বলতে হবে।

করোনায় আমাদের সরবরাহ ব্যবস্থা সমস্যা হয়নি। তবে বর্তমানে চীন থেকে কাঁচামাল আমদানিতে খরচ বেড়েছে। আবার কাস্টম কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন এসআরও জারি করে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে পণ্য আমদানির খরচ বাড়িয়ে দিয়েছে। এতে আমরা খুব মুশকিলে আছি। আবার আসবাব রপ্তানিতে ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। সরকার যদি কিছু সুযোগ-সুবিধা দেয়, তাহলে সেই বাজারে ভালোভাবে দখল নিতে পারবে বাংলাদেশের কোম্পানিগুলো। এটি হলো করোনার ক্ষতি পুষিয়ে ওঠা সহজ হবে। করোনাভাইরাস আমাদের চিন্তার জগৎ ওলটপালট করে দিয়েছে। মহামারি সাধারণত কোনো দেশে বা অঞ্চলে হয়। তবে করোনা সারা দুনিয়াকেই বিপর্যস্ত করেছে। মানুষকে ঘর থেকে বের হতেদেয়নি। তবে করোনার মতো ভবিষ্যৎ মহামারি মোকাবিলার জন্য পরিকল্পনা করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেও কোম্পানি হিসেবে আমরা সেটি পারছি না। কারণ, গত কয়েক মাসে আর্থিকভাবে আমরা অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছি।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved Sonali Bangla Tv 2020 - 2021
Develper By : Porosh Network Ltd